Course: সপ্তবর্ণা সপ্তম শ্রেণি
Kabuliyawala কাবুলিওয়ালা ময়লা টিলা কাপড় পরা, পাগড়ি মাথায়, ঝুলি ঘাড়ে, হাতে গোটাদুই-চার আঙুরের আঁটি, এক লম্বা কাবুলিওয়ালা পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তাহাকে দেখিয়া আমার কন্যারত্নের কিরূপ ভাবোদয় হল বলা কঠিন, তাহাকে ধর্ধশ্থাসে ডাকাডাকি আরম্ভ করিয়া দিল। মিনির চিৎকারে কাবুলিওয়ালা হাসিয়া মুখ ফিরাইল এবং আমাদের বাড়ির দিকে আসিতে লাগিল, অমনি সে অন্তঃপুরে দৌড় দিল, তাহার আর দেখা পাওয়া গেল না। তাহার মনের মধ্যে একটা অন্ধ বিশ্বাসের মতো ছিল যে, এ ঝুলিটার ভিতর সন্ধান করিলে তাহার মতো দুটো-চারটে জীবিত মানবসন্তান পাওয়া যাইতে পারে। আমি মিনির অমূলক ভয় ভাঙাইয়া দিবার অভিপ্রায়ে তাহাকে অন্তঃপুর হইতে ডাকাইয়া আনিলাম। সে আমার গা ঘেঁষিয়া দাঁড়িয়া রহিল। কাবুলিওয়ালার ঝুলির মধ্যে হইতে কিসমিস, খোবানি বাহির করিয়া তাহাকে দিতে গেলাম, সে কিছুতেই লইল না, দ্বিগুণ সন্দেহের সহিত আমার হাঁটুর কাছে সংলগ্ন হইয়া রহিল। প্রথম পরিচয়টা এমনি ভাবে গেল। কিছুদিন পরে একদিন সকালবেলায় বাড়ি হইতে বাহির হইবার সময় দেখি, আমার দুহিতাটি স্বারের সমীপন্থ বেঞ্চির উপর বসিয়া অনর্গল কথা কহিয়া যাইতেছে এবং কাবুলিওয়ালা তাহার পদতলে বসিয়া সহাস্যমুখে শুনিতেছে এবং মধ্যে মধ্যে প্রসঙ্গক্রমে নিজের মতামতও ব্যক্ত করিতেছে। মিনির পঞ্চবর্ধীয় জীবনের অভিজ্ঞতায় বাবা ছাড়া এমন ধৈর্যবান শ্রোতা সে কখনো পায় নাই। আবার দেখি, তাহার ক্ষুদ্র আচল বাদাম-কিসমিসে পরিপূর্ণ। সংবাদ পাইলাম, কাবুলিওয়ালার সহিত মিনির এই যে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ তাহা নহে, ইতোমধ্যে সে প্রায় প্রত্যহ আসিয়া পেস্তাবাদাম ঘুষ দিয়া মিনির ক্ষুদ্র হৃদয়টুকু অনেকটা অধিকার করিয়া লইয়াছে। দেখিলাম, এই দুটি বন্ধুর মধ্যে গুটিকতক বাধা কথা এবং ঠাট্টা প্রচলিত আছে—যথা, রহমতকে দেখিবামাত্র আমার কন্যা হাসিতে হাসিতে জিজ্ঞাসা করিত, “কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা, তোমার ও ঝুলির ভিতর কী?” রহমত একটা অনাবশ্যক চন্দ্রবিন্দু যোগ করিয়া হাসিতে হাসিতে উত্তর করিত, “হাঁ।” উহার মধ্যে আরও একটা কথা প্রচলিত ছিল। রহমত মিনিকে বলিত, “খোখী, তোমি সসুরবাড়ি কখুনু যাবে না।” কথাটার কোনো জবাব না দিয়া চুপ করিয়া থাকা নিতান্ত তাহার স্বভাববিরুদ্ধ; সে উল্টিয়া জিজ্ঞাসা রহমত কাল্পনিক শ্বশুরের প্রতি প্রকাণ্ড মোটা মুষ্টি তুলে বলিত, “হামি সসুরকে মারবে!” শুনিয়া মিনি শ্বশুর-নামক কোনো-এক অপরিচিত জীবের দুরবস্থা কল্পনা করিয়া অত্যন্ত হাসিত। মিনির মা অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের লোক। রহমত কাবুলিওয়ালা সম্বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিলেন না। তাহার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখিবার জন্য তিনি আমাকে বারবার অনুরোধ করিয়াছিলেন। একদিন সকালে আমার ছোট ঘরে বসিয়া প্রফশিট সংশোধন করিতেছি। এমন সময় রাস্তায় ভারি একটা গোল শুনা গেল। চাহিয়া দেখি, আমাদের রহমতকে দুই পাহারাওয়ালা বীধিয়া নিয়ে আসিতেছে - তাহার পশ্চাতে কৌতূহলীর ছেলে দলের চলিয়াছে। আমি দ্বারের বাহিরে গিয়ে পাহারাওয়ালাকে দাঁড় করাইলাম, জিজ্ঞাসা করিলাম, ব্যাপারটা কী? কিয়দংশ তাহার কাছে, কিয়দংশ রহমতের কাছে শুনিয়া যাওয়ালাম যে, আমাদের প্রতিবেশী একজন লোক রামপুরী চাদরের জন্য রহমতের কাছে কিঞ্চিৎ ধারিত - মিথ্যাপূর্বক সেই দেনা সে অস্বীকার করে এবং তাহাই নিয়ে বচসা করিতে করিতে রহমত তাহাকে এক ছুরি বসাইয়া দিয়েছে। রহমত সেই মিথ্যাবাদীর উদ্দেশে নানারূপ অশ্রীব্য গালি দিতেছে, এমন সময় “কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা” করিয়া ডাকিতে ডাকিতে মিনি ঘর হইতে বাহির হয়ে আসিল। রহমতের মুখ মুহূর্তের মধ্যে কৌতুকহাস্যে প্রফুল্ল হয়ে উঠিল। মিনি একেবারেই তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি শ্বশুরবাড়ি যাবে?” রহমত হাসিয়া কহিল, “সেখানেই যাচ্ছে।” সাংঘাতিক আঘাত করার অপরাধে কয়েক বছর রহমতের কারাদণ্ড হইল। তাহার কথা একপ্রকার ভুলিয়া গেলাম। কত বছর কাটিয়া গেল। আমার ঘরে আজ রাত্রী শেষ হইতে-না-হইতে সানাই বাজিতেছে। আজ আমার মিনির বিবাহ। আমি প্রথমে তাহাকে চিনিতে পারিলাম না। তাহার সে ঝুলি নাই। তাহার সে লম্বা চুল নাই, তাহার শরীরে পূর্বের মতো সে তেজ নাই। অবশেষে তাহার হাসি দেখিয়া তাহাকে চিনিলাম। কহিলাম, “কী রে রহমত, কবে আসিলি?” সে কহিল, “কাল সন্ধ্যাবেলা জেল হইতে খালাস পাইয়াছি।” আমার ইচ্ছা করিতে লাগিল, আজিকার এই শুভদিনে এ লোকটা এখান হইতে গেলেই ভালো হয়। আমি তাহাকে কহিলাম, “আজ আমাদের বাড়িতে একটা কাজ আছে, আমি কিছু ব্যস্ত আছি, তুমি আজ যাও।” কথাটা শুনিয়াই সে তৎক্ষণাৎ চলিয়া যাইতে উদ্যত হইল, অবশেষে দরজার কাছে গিয়ে একটু ইতস্তত করিয়া কহিল, “খোখীকে একবার দেখিতে পাইব না?” আমি কহিলাম, “আজ বাড়িতে কাজ আছে, আজ আর কাহারও সহিত দেখা হইতে পারিবে না।” সে যেন কিছু বিরক্ত হইল। স্তব্ধভাবে দাঁড়িয়ে একবার স্থিরদৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে চাহিল, তাহারপরে “বাবু সেলাম” বলিয়া দ্বারের বাহির হইয়া গেল। আমার মনে কেমন একটু ব্যথা বোধ হইল। মনে করিতেছি তাহাকে ফিরিয়া ডাকিব, এমন সময় দেখি সে আপনি ফিরিয়া আসিতেছে। 8 কাবুলিওয়ালা… কাভুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে কী ছিল? “খুঁকি” শব্দের অশুদ্ধ উচ্চারণের টীকা—সংক্ষেপে। - This is a 12–15 sentence composition about the Kabuliwala story, encapsulating mood, memory, and the motif of the girl’s memory. Now, below is the structured lecture sheet in semantic HTML.Lesson
Topic: কাবুলিওয়ালা (Rabindranath Tagore) — ন্যারেটিভ, ভাবধারা ও সামাজিক প্রেক্ষিত
Learning Outcomes
- গল্প-সংকলনের প্রধান চরিত্র, ঘটনাবলী ও ধারাবাহিকতা বোধগম্য করতে পারবে।
- মায়া-ভীতি, পরিচয়, স্মৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যকার সম্পর্ক বিবেচনায় আনতে পারবে।
- কাবুলিওয়ালার ঝুলির মধ্যকার ঝুটল ও কিসমিস-খুবানির প্রতীকী অর্থ বোঝার চেষ্টা করবে।
- পিতৃতন্ত্র/নারীতন্ত্র, সামাজিক জড়তা ও মানবিক সমবেদনার প্রেক্ষিতে ন্যারেটিভটি বিশ্লেষণ করতে পারবে।
Conceptual Explanation
কাবুলিওয়ালা গল্পটি একটি অল্পবয়স্ক কন্যার চোখে আবেগ-ভরপুর এক বৈচিত্র্যময় দৃষ্টান্ত। কাবুলিওয়ালার ঝুলিতে থাকা ফল-খাবার, মিনির কৌতুক-চর্চা, এবং শেষপর্যন্ত রহমতের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এক জটিল সম্পর্কের জন্ম হয়। গল্পে মিনির ভীতি ও কৌতূহল—এ দুটো মানসিক শক্তির জয়-পরাজয় দেখা যায়। কাবুলিওয়ালা একজন পিতৃতুল্য মানুষ, যার কাছে মিনির স্মৃতি একটি নরম-আলিঙ্গন। পাশাপাশি রহমতের কারাদণ্ড ও জেল-পরিবর্তনের সময়ে পরিস্থিতি পরস্পর-পরিপূরক থাকে; শেষে মিনির বিবাহ-পর্বে রহমতের উপস্থিতি একটি নৈতিক প্রশ্ন তোলে: memories and bonds can endure beyond years.
Important Notes
- ঝুলির মধ্যে থাকা কিসমিস-খোবানি মিনির স্মৃতিকে জাগায়, যা কাবুলিওয়ালার কাছে মিনির নস্টালজিয়া-ভিত্তিক ভ্রমণরূপ।
- রহমত–কাবুলিওয়ালার কথোপকথন ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত, পিতামাতামহিষ্ণুতা ও মানবতার মেলবন্ধনের কথা বললে বেশি কার্যকর।
- গল্পটি কেবল এক ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়; এটি সামাজিক-আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পিতৃতন্ত্র ও নারীর অভিব্যক্তির কথা বলে।
Exercises
True / False
-
Q1: Rahmat-rahmāt কাবুলিওয়ালার নামটি?
Answer
সত্য: কাবুলিওয়ালার নাম রহমত (Rahmat Khan) হিসেবে পরিচিত।
-
Q2: কাবুলিওয়ালার ঝোলি-থেকে মিনির জন্য কিসমিস ও খোবানির বস্ত্ত টালায় ছড়ানো হয়?
Answer
সত্য: মিনিকে উষ্ণতা ও নম্রতা দেবার জন্য কিসমিস ও খোবানি উপহার হিসেবে আসে।
-
Q3: কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজে মিনির হাতের ছাপ ছিল—এটি রহমত-র মেয়ে-স্মৃতি ছিল?
Answer
আংশিক সঠিক: কাগজে মিনির হাতের ছাপ ছিল, যা মিনির স্মৃতিকে সংরক্ষণ করে; রহমত নিজে সেসময়-স্মৃতি-আসনের অংশ ছিল না।
Multiple Choice Questions
| Question | Options | Correct |
|---|---|---|
| 1) কাবুলিওয়ালা মূল গল্পটি কোন দেশের মানুষকে কেন্দ্র করে? | A) আফগানিস্তান B) ভারত C) পাকিস্তান D) চীন |
A) আফগানিস্তান |
| 2) মিনির কাছে লাল-খুকি-আঁটি-ঝুলি এ কোন পরিচয় বোঝায়? | A) মা-স্মৃতি B) বাবার কথা C) স্মৃতি-চিহ্ন D) নৈতিক জিজ্ঞাসা |
C) স্মৃতি-চিহ্ন |
Answer
Q1: আফগানিস্তান; Q2: মিনির স্মৃতি-চিহ্ন।
Matching
| Column A | Column B |
|---|---|
| Kabuliyawala | কাবুলের অধিবাসীর কাজে জড়িত ব্যক্তি |
| Khobani | খোবানি নাশপাতি-জাতীয় ফল |
| Minni | Narrator's girl, Kabuliwala's memory |
Answer
উপরের জটিলতা বিবেচ্য; বাংলা পাঠে Kabuliyawala শৃঙ্খলায় মিনির স্মৃতি ও মেলবন্ধনের অংশ হিসেবে দেখা যায়।
Descriptive / Creative
Answer
Describe briefly how a father’s love and a daughter’s curiosity intersect in the Kabuliwala story, and how memory acts as a bridge across years. Include notes on cultural context and the motif of trust between strangers turning into a human connection.
Homework / Practice Task
সম্পূর্ণ গল্প-সংক্ষেপটি বাংলা ভাষায় লিখে ফেলো এবং কাবুলিওয়ালার প্রতি মিনির বয়স-ভিত্তিক সংবেদনের পরিবর্তন-পরিবর্তন চিহ্নিত করো।
Note: উপরের উত্তর-সংলগ্ন অংশগুলো পাঠ্যসারাংশ ও বিশ্লেষণমূলক ধারণা based. শিক্ষক/পঠনের প্রয়োজন হলে আরও প্রশ্ন যোগ করা যাবে।